স্টাফ রিপোর্টার
পঞ্চগড়
পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে আনন্দ, ভালোবাসা এবং মানবতার বার্তা নিয়ে এই উৎসব। ঈদকে ঘিরে ব্যক্তিগত অনুভূতি, সাহিত্যচর্চা, পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন পঞ্চগড়ের তরুণ লেখক, সাংবাদিক ও নাট্যকার রাজু তুহিন।
প্রশ্ন: প্রথমেই আপনার ব্যক্তিগত পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাই।
রাজু তুহিন:
আমার পুরো নাম রাজু তুহিন। আমার জন্ম ১৭ আগস্ট ১৯৯৫ সালে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার হাবিজাবাদ ইউনিয়নের টোকাপাড়া গ্রামে। গ্রামীণ পরিবেশে আমার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। গ্রামের মানুষের সরল জীবন, তাদের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম ও ভালোবাসা আমাকে ছোটবেলা থেকেই গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। সেই অনুভূতিগুলোই পরবর্তীতে আমার লেখালেখির অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন: আপনার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলবেন?
রাজু তুহিন:
আমার পরিবারের প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। আমার বাবার নাম শাহজাহান। তিনি একজন প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের কথা শিখিয়েছেন। আমার মায়ের নাম মমতা। মা একজন গৃহিণী, কিন্তু আমার জীবনে তার অবদান অনেক বড়। মায়ের ভালোবাসা ও দোয়া আমাকে সবসময় শক্তি দেয়।
আমরা এক ভাই এক বোন। আমার বোনের নাম সীমা। পরিবারই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি
প্রশ্ন: আপনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কিছু বলবেন?
রাজু তুহিন:
আমার স্ত্রীর নাম লিজা। আমার জীবনের অনেক কঠিন সময়েও সে আমাকে সাহস দিয়েছে। আমাদের একটি কন্যা সন্তান আছে, তার নাম সারামনি। মেয়েকে আমি খুব ভালোবাসি। আমি চাই সে বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ হোক, মানবিক হোক এবং কুসংস্কারমুক্ত একজন মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠুক।
প্রশ্ন: বর্তমানে আপনি কী কাজ করছেন?
রাজু তুহিন:
আমি মূলত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছি। পাশাপাশি সাংবাদিকতা করি এবং লেখালেখি করি। সাংবাদিকতা আমাকে মানুষের কাছে নিয়ে যায়, আর লেখালেখি আমাকে সেই মানুষের গল্প প্রকাশ করার সুযোগ দেয়। সমাজের নানা বিষয়, মানুষের জীবন এবং বাস্তব ঘটনা নিয়ে কাজ করতে আমার ভালো লাগে।
প্রশ্ন: লেখালেখির শুরুটা কীভাবে?
রাজু তুহিন:
ছোটবেলা থেকেই গল্প শুনতে এবং বলতে আমার খুব ভালো লাগত। গ্রামের অনেক ঘটনা, মানুষের জীবনকাহিনি আমাকে ভাবাত। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে কবিতা লেখা শুরু করি। পরে গল্প, নাটকের স্ক্রিপ্ট এবং গান লেখার দিকেও আগ্রহ বাড়ে।
প্রশ্ন: আপনার লেখা বই সম্পর্কে কিছু বলবেন?
রাজু তুহিন:
হ্যাঁ, আমার লেখা একটি একক কাব্যগ্রন্থ রয়েছে, যার নাম “পথিকের প্রার্থনা”। এই বইটিতে মানুষের জীবন, প্রেম, আধ্যাত্মিকতা এবং মানবিক অনুভূতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
এছাড়াও একটি যৌথ কাব্যগ্রন্থে আমার লেখা প্রকাশিত হয়েছে, যার নাম “বেলা শেষের কবিতা”। এই বইটিতেও জীবনের নানা অনুভূতি ও বাস্তবতার কথা উঠে এসেছে।
প্রশ্ন: আপনার লেখালেখিতে কারা বেশি প্রভাব ফেলেছেন?
রাজু তুহিন:
আমার ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে আধ্যাত্মিক ও বাউল ধারার মানুষের। বিশেষ করে হাসন রাজা, লালন শাহ, বিজয় সরকার এবং শাহ আব্দুল করিমের গান ও দর্শন আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। তাদের দর্শনে মানবতা, ভালোবাসা ও আত্মিক সত্যের যে কথা বলা হয়েছে, সেগুলো আমাকে ভাবায় এবং লেখার অনুপ্রেরণা দেয়।
প্রশ্ন: আপনি কী ধরনের লেখা লিখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?
রাজু তুহিন:
আমি মূলত নাটকের স্ক্রিপ্ট, গল্প, কবিতা এবং বাউল ধারার গান লিখতে পছন্দ করি। আমার লেখায় মানুষের আবেগ, প্রেম, বন্ধুত্ব, সমাজের বাস্তবতা এবং আধ্যাত্মিকতার বিষয়গুলো বেশি উঠে আসে। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের হৃদয়ের গল্পই সবচেয়ে বড় গল্প।
প্রশ্ন: ঈদুল ফিতর আপনার কাছে কী অর্থ বহন করে?
রাজু তুহিন:
ঈদুল ফিতর আমার কাছে আনন্দ, ভালোবাসা এবং মানবতার উৎসব। এক মাস রোজা রাখার পর এই দিনটি আসে এক বিশেষ অনুভূতি নিয়ে। ঈদ আমাদের শেখায় ধৈর্য, সংযম এবং মানুষের প্রতি সহমর্মিতা।
প্রশ্ন: শৈশবের ঈদের কোনো স্মৃতি কি মনে পড়ে?
রাজু তুহিন:
শৈশবের ঈদ ছিল অনেক আনন্দের। ঈদের আগের রাতে নতুন কাপড় পাওয়ার অপেক্ষা, সকালে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে সারাদিন ঘোরাঘুরি—এসব স্মৃতি এখনো মনে পড়লে খুব ভালো লাগে। তখন ছোট ছোট আনন্দগুলোই ছিল সবচেয়ে বড় সুখ।
প্রশ্ন: এখনকার ঈদ আর ছোটবেলার ঈদের মধ্যে কী পার্থক্য দেখেন?
রাজু তুহিন:
আগে ঈদের আনন্দ ছিল অনেক সরল ও আন্তরিক। এখন অনেক কিছু বদলে গেছে, মানুষ ব্যস্ত হয়ে গেছে। তবে আমি মনে করি, ঈদের আসল সৌন্দর্য হলো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানো—যেটা কখনো বদলানো উচিত নয়।
প্রশ্ন: আপনার পরিবারে ঈদ কীভাবে উদযাপন করা হয়?
রাজু তুহিন:
ঈদের দিন সকালে নামাজ পড়ার মাধ্যমে দিন শুরু হয়। এরপর পরিবারের সবাই মিলে সময় কাটাই। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করি। এখন আমার ছোট মেয়ে সারামনি আছে, তাকে নিয়ে ঈদের আনন্দটা আরও অন্যরকম হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন: ঈদ উপলক্ষে পাঠকদের জন্য আপনার বার্তা কী?
রাজু তুহিন:
ঈদ আমাদের শেখায় ভালোবাসা, ক্ষমা এবং মানবতার শিক্ষা। আমি চাই এই ঈদে আমরা সবাই যেন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াই। ঈদের আনন্দ তখনই সত্যিকারের পূর্ণতা পাবে, যখন আমরা সেই আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করব।